
**রুম নম্বর-৪৪৪** তাওহিদুল ইসলাম সাদী "হোটেল রিজ প্যারিস" প্যারিসের অভিজাত হোটেলগুলোর মধ্যে একটি। প্যারিসে গেলে স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গের থাকার ফার্স্ট চয়েজ থাকে হোটেলটা। চাইনিজ বংশোদ্ভূত তাইওয়ানের সেলিব্রিটি ইয়াং হু প্যারিসের লুভর মিউজিয়ামে দা ভিঞ্চির অনন্য শিল্প মোনালিসা, এছাড়াও আরও ইতিহাসের বিখ্যাত কিছু চিত্র, কাজকর্ম দেখার জন্য প্যারিসে আসে। তাই এক সপ্তাহের জন্য ওঠে সে হোটেল রিজ প্যারিসে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার রুমটা পড়ে তিন চার এর সংখ্যায়। হোটেলে রুমটা বুক করার সময় বুঝতে পারেনি ইয়াং হু। তার সাথে এ এক সপ্তাহে কি হতে যাচ্ছে! ইয়াং হু পুরোদিন ঘুরাঘুরি শেষ করে হোটেল রিজ প্যারিসে এসেছে। গায়ে কালো ওভার কোট পরা, কোঁকড়া চুল, চোখে সানগ্লাস পরা। ইয়াং হু তার বুকিং করা রুমে চলে গেল। রুমের সংখ্যা তিনটা চার—৪৪৪। ইয়াং হু ফ্রেশ হয়ে নিল। গোসল করে ডিনার করার পর। হাতে এক কাপ কফি খেতে খেতে তার আজকের দিনের তোলা ছবি বাছাই করে ইন্টারনেটে পোস্ট করছে। এটা তার নিত্যদিনের কাজ। তাই আপন মনে কাজ করছে সে। ল্যাপটপের সামনে বসে আছে ইয়াং হু। এভাবে প্রায় রাত ১২টা বেজে গেছে ইয়াং হু তার কাজগুলো করতে করতে। হোটেল রিজ প্যারিসে কারেন্ট চলে গেলেও তাদের নিজস্ব জেনারেটর আছে। এসব কিছু থাকার পরেও ঠিক বারোটার এক মিনিট থেকে ইয়াং হুর রুমের কারেন্ট চলে গেছে। ইয়াং হু ঠিক বুঝতে পারছে না এর কারণ। ইয়াং হু নিজের রুম থেকে বাইরে বের হয়ে দেখল অন্য রুমে কারেন্টের লাইন ঠিক আছে। ইয়াং হু হোটেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টা জানায়। কিছুক্ষণের মধ্যে বিষয়টা তদারকি করে হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায় সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু তারপরেও কারেন্টের লাইন রুমে কেন সাপ্লাই হচ্ছে না সেটা বুঝতে পারল না। ইয়াং হু এতে বিরক্তবোধ করল কিছুটা। তারপরও নিজের রুমে চলে গেল। হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানাল তাকে যেন কালকেই অন্য আরেকটা রুমে শিফট করে দেয়। হোটেল স্টাফরা সবাই নিজের কাজে চলে গেল। ইয়াং হুর বিরক্তি আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেল এতে। কিছু আর করার না দেখে তার রুমেই চলে গেল। ইয়াং হু ভাবল একবার কি বাইরে থেকে ঘুরে আসবে? না, কিছুক্ষণ পর সে চিন্তাটা বাদ দিল। আজ সকাল থেকে প্রায় পুরোটা সময় সে ঘুরে ঘুরে কাটিয়েছে। শরীরটা খুব ক্লান্ত লাগছে তার। তাই সে কোথাও যাওয়ার কথা মাথা থেকে বের করে দিল। আজকের রাতটা এখানেই থাকবে। কাল অন্য এক হোটেলে শিফট হয়ে যাবে। ইয়াং হু হোটেল রিজ প্যারিসের মখমলের বিছানায় শুয়ে শুধু এপাশ-ওপাশ করছে। যতই সময় যাচ্ছে ততই তার অস্বস্তি বাড়তে লাগল। ইয়াং হুর কেমন যেন অস্বাভাবিক অস্বস্তি হতে লাগল। সে বুঝতে পারছে না তার সাথে কি হচ্ছে বা ঘটতে যাচ্ছে। ইয়াং হু শুধু বারবার এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। তার মনে হচ্ছে যেন রুম ৪৪৪-এ সে ছাড়া আরও একজনের অস্তিত্ব রয়েছে। ধীরে ধীরে তার অস্বস্তিটা ভয় রূপ নিল। ইয়াং হু তার গায়ের ল্যাপটপটা ভালোভাবে মুড়িয়ে নিল। সে বারবার রুমের কোণায় কোণায় তাকাচ্ছে। মনে হচ্ছে তার আশেপাশে কেউ একজন ঘোরাফেরা করছে। এভাবে প্রায় কিছুক্ষণ চলতে থাকল। হঠাৎ করে ইয়াং হু তার শরীরে কিছু একটা স্পর্শ পেল। এবার সে ভয়ে থমকে গেল। বিছানা ছেড়ে উঠে বাইরে চলে যেতে চাইল। কিন্তু সে সফল হলো না। অদৃশ্য কেউ একজন তাকে চেপে ধরেছে। ইয়াং হু জোর করে কয়েকবার উঠতে চাইলেও পারল না। চিৎকার করতে গিয়েও পারল না, কারণ তার গলাটা যেন কেউ চেপে ধরেছে। ইয়াং হু অদৃশ্য দানব থেকে নিজেকে ছাড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করল... কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। বরং তাকে আরও শক্ত করে চেপে ধরা হলো। বেশ কিছুক্ষণ পর ইয়াং হু ছাড়া পেল। কয়েকবার কেঁপে শ্বাস নিল জোরে জোরে। ছোট ছোট শব্দ করে বলল— — কে আপনি? কথাটা বলার কিছুক্ষণ পর রুমের লাইট জ্বলে উঠল। আবার নিভে গেল। এভাবে বারবার জ্বলতে নিভতে লাগল। ফলে রুমের পরিবেশ আরও ভৌতিক হয়ে উঠল। আরও কিছুক্ষণ পর সুন্দর মিষ্টি কণ্ঠের এক মেয়ের কথা ভেসে এলো— — নাম আমার জোসেফা। এখানে এক রাতে আমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে ডেটে আসি। রুমটা ছিল হোটেল রিজ প্যারিসের ৪৪৪ নম্বর রুম—মানে এই রুমটাই। সেদিন আমার বয়ফ্রেন্ড তার বন্ধুদের নিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে, আমার ওপর নির্যাতন চালায়, শেষে আমাকে কারেন্ট শক দিয়ে মেরে ফেলে। তারপর থেকেই আমি এখানে থাকি। আর এই রুমে যে একবার আসে, সে দ্বিতীয়বার ফিরে যেতে পারে না—সে যেই হোক না কেন। আমি তাদের এই রুমেই বন্দী করে রাখি। তারপর এক ভয়ংকর হাসি শোনা গেল। অদৃশ্য মেয়েটি ঠিকই বলেছিল। রুম ৪৪৪-এ যে একবার আসে, সে দ্বিতীয়বার বের হতে পারে না। পরদিন সকালে ইয়াং হুর পিএস অনেক দেরি পর্যন্ত তার রুম থেকে বের না হলে ফোনেও কোনো সাড়া না পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরে তারা রুমে ঢুকে হতভম্ব হয়ে যায়। ইয়াং হু সাদা মেঝেতে পড়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে তার শরীর থেকে সব রক্ত শুষে নেওয়া হয়েছে। পরে ডাক্তার পরীক্ষা করে জানায়—ইয়াং হু কারেন্ট শকে মারা গেছে। এভাবে পরপর আরও দু’বার এই ধরনের ঘটনা ঘটে। শেষে উপায়ান্তর না দেখে হোটেল কর্তৃপক্ষ রুমটি বন্ধ করে দেয়। হোটেল স্টাফদের কানাঘুষায় শোনা যায়—ওই রুম থেকে মাঝে মাঝে মানুষের কথা বলার, কান্নার, আর ভয়ংকর হাসির শব্দ শোনা যায়। শিক্ষার্থী: অনার্স প্রথম বর্ষ, গণিত বিভাগ, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ, পাবনা।
রুপপুর পারমানবিক চূল্লী , প্রফেসর মোঃ লুৎফর রহমান
The Sailor of the Seven Seas , translated by Noor-E-Alam
যে চিঠি দেবো বলে অপেক্ষায়, আতিক শাহরিয়ার
**Department of Political Science**, Professor Md. Abdul Hamid