
আমি “না” বললাম। তবু দুই কাপ কফি নিয়ে আমার রুমে এলো ময়না।**
আমি একটু রাগী গলায় বললাম,
“আমি তোমাকে বললাম তো চা খাব না।”
ময়না বলল,
“তুমি চা খাবে না, তাই কফি নিয়ে এলাম। তুমি তো একবারও বলোনি কফি খাবে না। কী বলেছো?”
না, তা বলিনি। তবে তার মানে এই না যে আমি কফি খেতে চেয়েছি।
আজকে পড়ানো শেষ করলাম রাত সাড়ে আটটার দিকে।
আমি লক্ষ্য করলাম, ময়নার পড়ালেখার গতি আগের চেয়ে বেড়েছে, বিশেষ করে তার রেজাল্ট বের হওয়ার পরে। তার ক্লাসের সব বান্ধবী গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ পেয়েছে, কিন্তু সে পেয়েছে শুধু জিপিএ ফাইভ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আগের দিন রাতে ছোট বাচ্চার মতো ময়না আমাকে বলল,
“ভাইয়া, আমি যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাই, তাহলে তোমার কাছে একটা জিনিস চাইব। তোমাকে সেটা দিতে হবে।”
আমি বললাম,
“যদি আমার সাধ্যের মধ্যে থাকে, তাহলে অবশ্যই দেব।”
সে বলল,
“আমি কি তোমার কাছে কোনোদিন অযৌক্তিক কিছু চেয়েছি?”
আমি বললাম,
“না।”
ময়না মুচকি হেসে বলল,
“এবারও আমি অযৌক্তিক কিছু চাইব না। তোমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব এমন কিছুই চাইব।”
একুশ দিন পরে রেজাল্ট বের হলো।
ময়না ‘ক’ ইউনিটে ৪৬৭তম হয়েছে।
বাসায় ঈদের আনন্দের মতো একটা পরিবেশ তৈরি হলো।
মামী টেলিফোন করে পরিচিতদের নিজের মেয়ের সাফল্যের খবর দিতে লাগলেন। মামিকে এত আনন্দিত খুব কমই দেখা যায়।
রাত সাড়ে নয়টার দিকে ময়না আমাকে বলল,
“ভাইয়া, চলো ছাদে যাই।”
আজ তার কোনো কথায় না বলার অধিকার আমার নেই।
চাঁদের আলোতে সবকিছু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
ময়নাকে তার গত জন্মদিনে যে নীল শাড়ি দিয়েছিলাম, সেটাই আজ সে পরেছে। ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক। সব মিলিয়ে তাকে খুব সুন্দর লাগছে। আমার মনে হচ্ছিল, যেন এক টুকরো চাঁদ আমাদের বাসার ছাদে নেমে এসেছে।
কথা বলার মাঝেই হঠাৎ ময়না আমার দিকে দুই পা এগিয়ে এসে চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ভর্তি পরীক্ষার আগের দিন রাতে তোমার করা কমিটমেন্টের কথা মনে আছে?”
আমি হাসিমুখে বললাম,
“তোমার ইচ্ছেটা বলো। সম্ভব হলে আমি পূরণ করব।”
ময়না আচমকা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“আমি তোমাকে অসম্ভব ভালোবাসি! তোমাকে বিয়ে করতে চাই!”
আমি হতবাক হয়ে গেলাম।
এমনটা আশা করিনি। কী করব বুঝতে না পেরে তাকে ঠেলে দূরে সরিয়ে দিলাম। বললাম,
“দিন দিন বেয়াদব হয়ে যাচ্ছো তুমি! এরপরে যদি এমন কথা বলো, তোমাকে ধাক্কা দিয়ে চারতলার ছাদ থেকে ফেলে দেব!”
এই কথা বলে আমি ছাদ থেকে নিচে নামতে থাকলাম।
অপরাধবোধ হতে লাগল। একটু বেশি রিঅ্যাক্ট করে ফেলেছি। আর যাই হোক, ময়না বেয়াদব মেয়ে না।
ছাদ থেকে নেমে আমি সোজা মামা-মামির ঘরে চলে গেলাম।
মামা-মামিকে কথাগুলো বলতে যাব, ঠিক সেই মুহূর্তে নিচে থেকে দারোয়ান চিৎকার করে উঠল—
“কে কোথায় আছো! আমাদের ময়না মামী ছাদ থেইকা পড়ে গেছে!
**শিক্ষার্থী, অনার্স প্রথম বর্ষ, অর্থনীতি বিভাগ, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ, পাবনা**