Splash

রাত জেগে বই পড়া আমার অভ্যাস। কোনো এক রাতে কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী পড়ছিলাম। পড়তে পড়তে মনে হলো—ইস, আমিও যদি কবি হতাম! তাহলে কতই না ভালো হতো! ইচ্ছা করছিল একটি গল্প লিখি। তো আর কী! যেই ভাবা সেই কাজ। খুব মনোযোগ সহকারে খাতা-কলম আর আমার মস্তিষ্ককে নিয়ে বসে পড়লাম। ভাবছি ভূতের গল্প লিখবো। রাত বাজে বারোটা। কাফনের কাপড়ের মতো সাদা কাগজে কলমের কালো দাগ পড়ার আগেই দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ। তেমন কিছু মনে না করে আবার ফিরে তাকালাম খাতার দিকে। ভাবছি কী দিয়ে শুরু করবো। এর মধ্যে আবারও দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ। কে জানি বলছে, “খোলো, খোলো, দরজা খোলো!” আমার হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা। এত রাতে কেউ জেগে থাকে না, এমন ভয়ঙ্কর কণ্ঠে কে ডাকছে আমাকে? মনের ভেতরে হাজারো প্রশ্ন! মনে হলো সেই ছোটবেলার কথা, আমার নানি একবার ভূতের গল্প শুনিয়েছিলেন। ভূতটি ছিল নিশি ভূত। নানি বলেছিলেন, নিশি ভূত নাকি আপনজনের কণ্ঠ নকল করে ডাক দেয়। তার ডাকে সাড়া দিলে নাকি টেনে নিয়ে পানিতে ডুবিয়ে মারে। তাহলে এ কি নিশি ভূত! শরীর কেমন শিউরে উঠলো। মনে হচ্ছিল, দরজা খুললে কী জানি কী হয়! ভয়ে আতঙ্কে শেষ হয়ে যাচ্ছিলাম। টের পাচ্ছিলাম, কপাল বেয়ে ঘাম বের হচ্ছে। ভাবছিলাম, দরজা খুললে আমাকে কি টেনে নিয়ে যাবে? তো আর কী করা! বিদ্রোহী কবিতার সাহসী চেতনা মনে নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়ালাম। একি, দরজা খুলতেই দেখি আমার মা! মা বলছে, “কিরে ডাকলি আমায়? এত রাতে লাইট জ্বালিয়ে কী করিস?” মাকে যেন কিছুই বলতে পারলাম না। সবকিছু নিস্তব্ধ মনে হলো। চারদিকে তাকিয়ে দেখলাম কোথাও কিছু নেই। মা ধমক দিয়ে বললো, “যা, গিয়ে ঘুমা।” মায়ের বকুনিতে আমার আর ভূতের গল্প লেখা হলো না।
asus
hajitoto
hajitoto
hajitoto
hajitoto